একসময় সাকিব আল হাসানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ কোচ ছিলেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাকিবের রাজসিক পারফরম্যান্সের পেছনেও বড় অবদান ছিল এই অভিজ্ঞ কোচের। এমন এক সময়ে, যখন সাকিবকে আবার জাতীয় দলে ফেরানো নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন সালাউদ্দিনের অবস্থান জানতেই কৌতূহল ছিল ক্রিকেট অঙ্গনে।
সাধারণত আকার-ইঙ্গিতেই নিজের কথা সেরে নিতে পছন্দ করেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। সাকিব প্রসঙ্গেও তিনি সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিতেই বুঝিয়ে দিয়েছেন নিজের ভাবনা। তবে একটি বিষয়ে তিনি ছিলেন একেবারেই স্পষ্ট—সাকিব এমন একজন ক্রিকেটার, যাকে যে কেউ দলে চাইবে।
সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে সালাউদ্দিন বলেন,
‘এ ব্যাপারে মন্তব্য করা আমার জন্য খুব কঠিন।’
তবে সাকিবকে দলে পাওয়াকে স্বস্তির বিষয় উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন,
‘যদি কেউ বলে আমি সাকিবকে চাই না, তাহলে মনে হয় আমরা বোকার রাজ্যে বাস করছি। সাকিবের মতো খেলোয়াড়… সবচেয়ে বড় কথা হলো দলের ব্যালেন্স চলে আসে। একটা ব্যাটার, একটা বোলার—দুই দিকেই পাওয়া যায়। সাকিব যদি ফিট থাকে, যে কেউই তাকে চাইবে। এখানে প্রশ্ন করার মতো কিছু নেই।’
সাকিবের মতো অলরাউন্ডারকে কে না চাইবে—এ কথা মানলেও সালাউদ্দিন মনে করিয়ে দিয়েছেন, আধুনিক ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের ভূমিকা অনেক ক্ষেত্রে নতুন নিয়মের মাধ্যমে সামাল দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আইপিএলের জনপ্রিয় ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কথা তুলে ধরেন তিনি। এই নিয়মই এবার ব্যবহার করা হবে আসন্ন অদম্য বাংলাদেশ টি–টোয়েন্টি কাপে।
এ বিষয়ে সালাউদ্দিন বলেন,
‘এই নিয়মটা আগেও ছিল, অনেক দেশেই অ্যাপ্লাই করেছে। আমরাও করে দেখতে চাই। অনেক সময় ভালো হতে পারে। ১২ জন খেলবে—খুব একটা খারাপ নিয়ম মনে হয় না। কাজ সবার জন্য বেড়ে যাচ্ছে। দিনশেষে ক্যাপ্টেনই সিদ্ধান্ত নেবে। কোচেরা তো বাইরে বসে থাকব। খেলা শুরু হয়ে গেলে আমাদের তেমন কিছু করার থাকে না।’
সাকিবের জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও, সালাউদ্দিনের কথায় স্পষ্ট—ফিট সাকিব মানেই দলের জন্য বাড়তি শক্তি ও ভারসাম্য।

