ঢাকাSunday , 6 September 2026
  1. আইপিএল
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খবর
  4. ছবি
  5. পিএসএল
  6. বাংলাদেশ
  7. বিপিএল
  8. বিশ্বকাপ
  9. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ খবর

নিষেধাজ্ঞা, ইনজুরি, বাদ পড়া—তবুও ফিরে এসেছেন তাসকিন

Rahidul
September 6, 2026 1:33 am
Link Copied!

একজন ফাস্ট বোলারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র কী? গতি? বাউন্স? নাকি ভয়ংকর আগ্রাসন? তাসকিন আহমেদের গল্প বললে উত্তরটা হয়তো অন্যরকম। কারণ তার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ফিরে আসার ক্ষমতা। একসময় যে ছেলেটিকে বিকেল ৫টার আগে মাঠে যেতে দেওয়া হতো না, সেই ছেলেটিই একদিন হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের অন্যতম পরিচিত পেসার। যে বোলার বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যাটারদের কাঁপিয়েছেন, সেই বোলারকেই আবার একসময় শুনতে হয়েছে—‘তোমার বোলিং অ্যাকশন অবৈধ।’ কখনো ইনজুরি তাকে ক্রিকেট থেকে দূরে সরিয়েছে, কখনো বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছেন। কিন্তু প্রতিবারই তিনি ফিরে এসেছেন। এটাই তাসকিন আহমেদের গল্প। এটা শুধু একজন ক্রিকেটারের গল্প নয়, এটা বারবার হার মেনে নিতে অস্বীকার করা একজন মানুষের গল্প।

১৯৯৫ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকায় জন্ম তাসকিন আহমেদের। ছোটবেলায় তার স্বপ্ন ছিল না যে একদিন বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। পরিবারের কাছে তখন পড়াশোনাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অন্য সব ছেলের মতোই ক্রিকেট খেলতেন তাসকিন। কিন্তু তার মধ্যে একটা বিষয় খুব দ্রুতই চোখে পড়েছিল—তার উচ্চতা এবং বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক গতি। ছোটবেলা থেকেই বল হাতে তার গতি ছিল নজরকাড়া। ২০০৭ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে লেদার বলে ক্রিকেট খেলার সুযোগ পান তিনি। কিন্তু ক্রিকেট খেলাটা তার পরিবারের কাছে তখনও খুব সহজভাবে নেওয়ার বিষয় ছিল না। তার বাবা চাইতেন ছেলে পড়াশোনায় মন দিক। নির্দিষ্ট সময়ের আগে মাঠে যেতে দেওয়া হতো না। কিন্তু তাসকিনের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা ছিল অন্যরকম। সুযোগ পেলেই মাঠে ছুটে যেতেন। একসময় একজন কোচ তার মধ্যে সম্ভাবনা দেখতে পান। ধীরে ধীরে পরিবারও বুঝতে পারে, ছেলের মধ্যে হয়তো সত্যিই বিশেষ কিছু আছে। যে বাবা একসময় ক্রিকেটের জন্য ছেলেকে শাসন করতেন, সময়ের সঙ্গে সেই বাবাই হয়ে ওঠেন তাসকিনের ক্রিকেট জীবনের অন্যতম বড় সমর্থক।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রায় ৬০০ তরুণ পেসারের ট্রায়ালে অংশ নেন তাসকিন। সেখান থেকে পরবর্তী ধাপে সুযোগ পান মাত্র ২০ জন। আর সেই ২০ জনের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী এবং দ্রুতগতির বোলারদের একজন ছিলেন তাসকিন। এরপর শুরু হয় কঠোর অনুশীলন। বড়দের সঙ্গে ট্রেনিং, দীর্ঘ সময় মাঠে থাকা, নিজের শরীরকে একজন ফাস্ট বোলারের উপযোগী করে তৈরি করা—সবকিছুই চলতে থাকে। ২০১১ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ঢাকা মেট্রোপলিসের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এরপর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে দারুণ বোলিং করেন তিনি এবং টুর্নামেন্টের অন্যতম সফল উইকেটশিকারি হিসেবে নিজের সামর্থ্যের জানান দেন। এরপর ২০১৩ সালের বিপিএলে চিটাগং কিংসের হয়ে মাত্র দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। তখনই বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা বুঝতে শুরু করেন—নতুন একজন পেসার উঠে আসছেন।

আরও পড়ুনঃ  বারবার চোট, বারবার প্রত্যাবর্তন! মুস্তাফিজুর রহমানের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প | The Fizz

২০১৪ সাল বদলে দেয় তাসকিন আহমেদের জীবন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। বয়স তখন মাত্র ১৮। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকেই নিজের গতির ছাপ রাখতে শুরু করেন তিনি। এর কিছুদিন পর ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক। আর অভিষেক ম্যাচেই ৫ উইকেট! একজন তরুণ পেসারের জন্য এর চেয়ে দুর্দান্ত শুরু আর কী হতে পারে? এরপর আসে ২০১৫ বিশ্বকাপ। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাত্র তিন ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়েই বিশ্বকাপের দলে জায়গা করে নেন তাসকিন। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার নেওয়া উইকেটগুলো বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালের পথ তৈরি করতে বড় ভূমিকা রাখে। এরপর ভারতের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালেও তিন উইকেট নেন তিনি। আর মাশরাফি বিন মুর্তজার সঙ্গে তার সেই উদযাপন ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাসকিন হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরিচিত মুখ।

কিন্তু একজন ফাস্ট বোলারের ক্যারিয়ার কখনোই শুধু সাফল্যের গল্প নয়। গতি যত বেশি, শরীরের ওপর চাপও তত বেশি। তাসকিনের ক্যারিয়ারেও আসে ইনজুরি। হাঁটুর অস্ত্রোপচার করতে হয় তাকে। দীর্ঘ সময় ক্রিকেটের বাইরে থাকতে হয়। প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থাকার পর শুরু হয় আবার ফিরে আসার লড়াই। একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য এই সময়টা কতটা কঠিন, সেটা হয়তো বাইরে থেকে বোঝা সম্ভব নয়। যখন সতীর্থরা মাঠে খেলছেন, তখন তাকে সময় কাটাতে হচ্ছে রিহ্যাব আর অনুশীলনে। প্রতিদিন নিজের শরীরকে আবার ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করতে হয়েছে। কিন্তু তাসকিন হাল ছাড়েননি। দিনের পর দিন পরিশ্রম করেছেন, রিহ্যাব করেছেন, আবার বোলিং শুরু করেছেন এবং জাতীয় দলে ফেরার জন্য নিজেকে তৈরি করেছেন।

এরপর আসে ২০১৬ সাল। আর এই বছরটিই হয়তো তাসকিন আহমেদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি। বাংলাদেশ খেলছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তাসকিন দলের গুরুত্বপূর্ণ পেসার। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের পর তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। তাকে পরীক্ষা দিতে পাঠানো হয়। এরপর আসে সেই দুঃসংবাদ—ICC তাসকিন আহমেদের বোলিং অ্যাকশনকে অবৈধ ঘোষণা করে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার বোলিং নিষিদ্ধ করা হয়। যে ক্রিকেটারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার বোলিং, হঠাৎ সেই বোলিংটাই হয়ে গেল নিষিদ্ধ। শুধু নিষেধাজ্ঞাই নয়, সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিভিউ করেও কোনো লাভ হয়নি। তাকে দেশে ফিরে আসতে হয়।

আরও পড়ুনঃ  বারবার চোট, বারবার প্রত্যাবর্তন! মুস্তাফিজুর রহমানের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প | The Fizz

ভাবুন একবার, মাত্র দুই বছর আগে যে ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছেন, বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলেছেন, দেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়েছেন, সেই ক্রিকেটারকেই হঠাৎ বলা হলো—তুমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করতে পারবে না। একজন তরুণ ক্রিকেটারের জন্য এটা ছিল বিশাল মানসিক ধাক্কা। কিন্তু এখানেই তাসকিনের গল্প অন্যদের থেকে আলাদা। তিনি ভেঙে পড়লেও থেমে যাননি। দেশে ফিরে শুরু করেন নতুন লড়াই। নিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে কাজ করেন। ভিডিও বিশ্লেষণ, অনুশীলন, প্রশিক্ষণ—সবকিছু চলতে থাকে। লক্ষ্য একটাই, আবার বৈধভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বল করা।

শেষ পর্যন্ত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রিসবেনে পুনর্মূল্যায়নের জন্য পরীক্ষা দেন তাসকিন। আর সেই পরীক্ষার ফল আসে তার পক্ষে। তার বোলিং অ্যাকশন বৈধ ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ যেই বোলিংয়ের কারণে তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল, সেই বোলিং নিয়েই আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার অনুমতি পেলেন তিনি। এটা ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রত্যাবর্তন। নিষেধাজ্ঞা তাকে থামাতে পারেনি।

তাসকিনের ক্রিকেট জীবনে তার পরিবারের অবদানও আলাদা করে বলার মতো। শুরুতে তার বাবা ক্রিকেটের চেয়ে পড়াশোনাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন। কিন্তু ছেলের প্রতিভা এবং ক্রিকেটের প্রতি তার ভালোবাসা বুঝতে পারার পর পরিবারের সমর্থনও বাড়তে থাকে। কঠিন সময়গুলোতে পরিবার তার পাশে ছিল। ইনজুরি, নিষেধাজ্ঞা, দল থেকে বাদ পড়া—প্রতিটি ধাক্কায় তাকে আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি দিয়েছে পরিবার। একজন ক্রিকেটারের সাফল্যের পেছনে শুধু তার নিজের পরিশ্রম থাকে না, তার পরিবারও অনেক ত্যাগ স্বীকার করে। তাসকিনের ক্ষেত্রেও সেটি সত্যি। তার ক্রিকেটের পেছনে পরিবারের সময়, মানসিক সমর্থন এবং ত্যাগ ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ।

কিন্তু তাসকিনের জীবনে আরেকটি বড় ধাক্কা অপেক্ষা করছিল। ২০১৯ বিশ্বকাপ। বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে জায়গা হয়নি তার। একজন ক্রিকেটারের জন্য বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ মিস করা কতটা কষ্টের, সেটা সহজে বোঝানো যায় না। এতদিনের পরিশ্রম, স্বপ্ন এবং অপেক্ষার পরও যখন নিজের নামটা বিশ্বকাপের স্কোয়াডে থাকে না, তখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়াই স্বাভাবিক। কিন্তু তাসকিন আবারও নিজেকে সামলে নেন। নিজের ভুল খুঁজে বের করেন। ফিটনেসে মন দেন। বোলিং নিয়ে আরও কাজ করেন। এবং নিজেকে নতুন করে তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর ধীরে ধীরে বদলে যেতে শুরু করেন তাসকিন। আগের তাসকিন হয়তো শুধু গতি দিয়ে ব্যাটারকে পরাস্ত করতে চাইতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তিনি বুঝতে শেখেন, ফাস্ট বোলিং শুধু গতির খেলা নয়। এটা নিয়ন্ত্রণের খেলা। এটা ধৈর্যের খেলা। এটা ফিটনেসের খেলা। আর সবচেয়ে বড় কথা, এটা মানসিক শক্তির খেলা। নিজের বোলিংয়ে বৈচিত্র্য আনেন, লাইন-লেন্থে আরও নিয়ন্ত্রণ আনেন এবং ফিটনেসের দিকে বিশেষ নজর দেন। ফলে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত হন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বারবার চোট, বারবার প্রত্যাবর্তন! মুস্তাফিজুর রহমানের অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের গল্প | The Fizz

তাসকিন আহমেদের ক্যারিয়ারকে যদি শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা হয়, তাহলেও তার গল্পটা অসাধারণ। আপনার দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, টেস্টে ২১ ম্যাচে ৫৯ উইকেট, ওয়ানডেতে ৯৪ ম্যাচে ১৩৭ উইকেট এবং টি-টোয়েন্টিতে ৯০ ম্যাচে ১০৬ উইকেট রয়েছে তার। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩০০-এর বেশি উইকেট—একজন বাংলাদেশি পেসারের জন্য নিঃসন্দেহে বড় অর্জন। তার ক্যারিয়ারে রয়েছে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট, টেস্টে ইনিংসে ৫ উইকেট এবং টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচ জেতানো অসংখ্য স্পেল। ICC বোলিং র‍্যাংকিংয়েও তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন।

কিন্তু তাসকিন আহমেদের গল্পকে শুধু উইকেট দিয়ে বিচার করলে গল্পের অনেকটাই বাদ পড়ে যাবে। কারণ তার ক্যারিয়ারে রয়েছে শৈশবের শাসন, পরিবারের সমর্থন, প্রতিভার স্বীকৃতি, কঠোর পরিশ্রম, ইনজুরি, দীর্ঘ রিহ্যাব, জাতীয় দলে অভিষেক, বিশ্বকাপ, আবার নিষেধাজ্ঞা, আবার প্রত্যাবর্তন, আবার বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়া এবং আবার নিজেকে প্রমাণ করে ফিরে আসা।

এ যেন একটা ক্রিকেট ম্যাচের মতো। কখনো আপনি এগিয়ে থাকবেন, কখনো পিছিয়ে যাবেন। কখনো মনে হবে ম্যাচ আপনার হাতের বাইরে চলে গেছে। কিন্তু ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যেতে হয়। তাসকিন আহমেদের ক্যারিয়ারও ঠিক তেমন।

১২ বছর বয়সে যে ছেলেকে মাঠে যাওয়ার জন্য বাবার কাছে অনুমতি নিতে হতো, আজ সেই তাসকিন আহমেদ বাংলাদেশের ক্রিকেটের অন্যতম পরিচিত পেসার। যে ছেলে একসময় ক্রিকেট খেলার জন্য পরিবারের শাসনের মুখে পড়েছিলেন, সেই ছেলেই একদিন দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন। যে বোলার ইনজুরির কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে ছিলেন, তিনি আবার ফিরেছেন। যে বোলারকে ICC আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং থেকে নিষিদ্ধ করেছিল, তিনি আবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ফিরেছেন। যে ক্রিকেটার বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ পড়েছিলেন, তিনিও আবার নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

তাই তাসকিন আহমেদের গল্পটা শুধু একজন ফাস্ট বোলারের গল্প নয়। এটা স্বপ্নের গল্প। এটা পরিবারের গল্প। এটা ব্যর্থতার পর ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প। এটা অপেক্ষার গল্প। এটা কঠোর পরিশ্রমের গল্প। আর সবচেয়ে বেশি—এটা ফিরে আসার গল্প।

কারণ ক্রিকেটে অনেকেই প্রতিভা নিয়ে আসে। অনেকেই গতি নিয়ে আসে। অনেকেই উইকেট নেয়। কিন্তু সবাই বারবার ধাক্কা খেয়ে আবার উঠে দাঁড়াতে পারে না।

তাসকিন আহমেদ পেরেছেন।

আর হয়তো এ কারণেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাসকিন শুধু একজন পেসার নন—

তাসকিন আহমেদ মানেই ফিরে আসার এক অনন্য গল্প।