আসন্ন দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্ট ঘিরে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে জোর আলোচনা। ব্রিটিশ গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যেসব দলে ভারতীয় বিনিয়োগ রয়েছে, তারা পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের দলে নাও নিতে পারে।
এই গুঞ্জনের মধ্যেই মুখ খুলেছেন ইংল্যান্ডের সাদা বলের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। তিনি বলেন,
“এই মুহূর্তে আমাদের মূল মনোযোগ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। সত্যি বলতে, এটি আমাদের সরাসরি বিষয় নয়। তবে পাকিস্তান বহু বছর ধরে একটি শক্তিশালী ক্রিকেট জাতি। নিলামে এতজন খেলোয়াড় আছে—তাদের মধ্যে কয়েকজনকেও যদি না দেখা যায়, সেটি দুঃখজনক হবে।”
নিলাম ঘিরে অনিশ্চয়তা
আগামী ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে দ্য হান্ড্রেডের নিলাম।
এবার পাকিস্তান থেকে ৬০-এর বেশি ক্রিকেটার নাম নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—
-
শাহীন শাহ আফ্রিদি
-
সালমান আলী আগা
-
উসমান তারিক
তবে খেলোয়াড়দের কয়েকজন এজেন্টের দাবি, ভারতীয় মালিকানাধীন দলগুলো পাকিস্তানি ক্রিকেটার নিতে অনাগ্রহী।
ভারতীয় বিনিয়োগ থাকা দলগুলো
দ্য হান্ড্রেডে ভারতীয় বিনিয়োগ রয়েছে চারটি দলে—
-
এমআই লন্ডন
-
ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস
-
সাউদার্ন ব্রেভ
-
সানরাইজার্স লিডস
এজেন্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব দলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সুযোগ প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
আইপিএলের উদাহরণ
এর আগে Indian Premier League-এ ২০০৯ সালের পর থেকে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটার সুযোগ পাননি। একইভাবে আইপিএল-সংযুক্ত অন্যান্য লিগেও পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের দেখা যায়নি।
বোর্ডের অবস্থান
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) আনুষ্ঠানিক কোনো নিষেধাজ্ঞার কথা অস্বীকার করেছে। বোর্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন,
“দ্য হান্ড্রেডে বিশ্বের সব দেশের নারী ও পুরুষ ক্রিকেটারদের স্বাগত জানানো হয়। আমরা আশা করি আটটি দলই নিলামে সেটির প্রতিফলন দেখাবে।”
এর আগে ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন বিষয়টি নিয়ে ইসিবির হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব ক্রিকেটে নতুন নয়। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ কতটা সেই প্রভাবমুক্ত থাকতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। আসন্ন নিলামেই পরিষ্কার হবে—পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য দ্য হান্ড্রেডের দরজা কতটা খোলা

