টাইমিংয়ের সুনিপুণ ছোঁয়া, উইকেটের পেছনে সতর্ক দৃষ্টি এবং ব্যাট হাতে শৈল্পিক নান্দনিকতা—এই তিনের সংমিশ্রণে যিনি তৈরি, তিনি লিটন কুমার দাস। দিনাজপুর থেকে শুরু হওয়া এক সাধারণ ছেলের গল্প, যিনি হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম মূল স্তম্ভ।
১৯৯৪ সালের ১৩ অক্টোবর দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন লিটন দাস। শৈশব থেকেই ক্রিকেটের প্রতি তাঁর ছিল অগাধ ভালোবাসা। ২০১২ এবং ২০১৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফর্ম করে তিনি প্রথম সবার নজর কাড়েন। বিশেষ করে ২০১৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে আবুধাবিতে মাত্র ৪ ইনিংসে ২৩৯ রান করে নিজের অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন তিনি।
অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ের সফলতার পর ঘরোয়া ক্রিকেটেও রান বন্যা ভাসিয়ে দেন লিটন। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ এবং জাতীয় ক্রিকেট লিগে (NCL) রংপুর বিভাগের হয়ে এক মৌসুমে ৫টি সেঞ্চুরিসহ ১০০০-এর বেশি রান করে জাতীয় দলের কড়া নাড়েন তিনি। অবশেষে ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও ওডিআই এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর শুভসূচনা ঘটে।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শুরুতে কিছু চড়াই-উতরাই থাকলেও ২০১৮ সালে তিনি শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান। ভারতের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনালে তাঁর হাঁকানো প্রথম ওডিআই শতক পুরো ক্রিকেট বিশ্বকে মুগ্ধ করে। এরপর ২০২১ সালে চট্টগ্রামের মাটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পান। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৩ সালের ওডিআই বিশ্বকাপে বড় দলগুলোর বিপক্ষে তাঁর আক্রমণাত্মক ফিফটি বাংলাদেশকে এনে দেয় বিশেষ মুহূর্ত।
দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছেন তিনি। শুধু ব্যাটার বা উইকেটরক্ষক হিসেবেই নয়, ২০২৫ সালে টি-টোয়েন্টি এবং ২০২৬ সালে ওডিআই দলের অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ দলকে নতুন দিশা দেখানোর দায়িত্ব নেন তিনি।

