২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক স্বত্ব হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার কারণে টুর্নামেন্টটি শ্রীলঙ্কা থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) ট্রান্সফরমেশন কমিটির পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছয় দল নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। শ্রীলঙ্কার পরিবর্তে অন্য কোনো ভেন্যুতে টুর্নামেন্টটি আয়োজন করা হবে। নতুন আয়োজক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সম্ভাব্য আয়োজক হিসেবে ভারতের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আইসিসির পরবর্তী বোর্ড সভায় আসতে পারে।
শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট প্রশাসনে সরকারি হস্তক্ষেপই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে দেশটির ক্রিকেট বোর্ড একটি সরকার-নিযুক্ত ‘ট্রান্সফরমেশন কমিটি’র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। আইসিসির নীতিমালা অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে হয় এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকতে হয়।
ট্রান্সফরমেশন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রতিনিধিরা আইসিসির বোর্ড সভাতেও অংশ নিতে পারছেন না। গত জুলাইয়ে আইসিসি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছিল।
এর আগে ২০২৩ সালে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছিল আইসিসি। সেই সময় দেশটি ২০২৪ সালের পুরুষ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনের স্বত্বও হারায়; পরে টুর্নামেন্টটি দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে, টুর্নামেন্টের আয়োজক বদল হলে শ্রীলঙ্কার অংশগ্রহণ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। ছয় দলের এই আসরে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ পাঁচ দলের সঙ্গে স্বাগতিক হিসেবে শ্রীলঙ্কার খেলার কথা ছিল। শ্রীলঙ্কা বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ে ষষ্ঠ অবস্থানে থাকায় নতুন আয়োজক কে হয়, তার ওপর তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়টিও প্রভাবিত হতে পারে।

