প্রায় হারতে বসা ম্যাচে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। সুপার এইট পর্বে টানা তিন ম্যাচ জিতে অপরাজিত থাকল তারা। অন্যদিকে হারের পরও সেমিফাইনালের আশা বেঁচে আছে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান–এর। পাকিস্তান যদি শ্রীলঙ্কা–র বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জেতে, তবেই তারা শেষ চারে উঠবে—নইলে সুযোগ পাবে নিউজিল্যান্ড।
এই ম্যাচটি ছিল আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ–এর সুপার এইট পর্বের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই, যা অনুষ্ঠিত হয় আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম, কলম্বো–তে।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ সূচনা পায় কিউইরা। ওপেনিং জুটিতে দ্রুত রান তোলেন টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন। পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৫৪ রান তোলে দল।
তবে ওপেনিং জুটি ভাঙার পর কিছুটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এরপর ইনিংস ধরে রাখার চেষ্টা করেন গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্র। ফিলিপসের ঝলমলে ৩৯ রানের ইনিংস দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৯ রান করে নিউজিল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের হয়ে বল হাতে ২টি করে উইকেট নেন আদিল রশিদ, উইল জ্যাকস এবং রেহান আহমেদ। একটি উইকেট নেন লিয়াম ডওসন।
১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। দ্রুত দুই ওপেনার ফিরে গেলে দল চাপে পড়ে। এরপর ইনিংস সামাল দেন অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক ও জ্যাকব বেথেল।
মাঝের দিকে স্যাম কারান ও টম ব্যান্টন দায়িত্ব নিয়ে দলকে ম্যাচে রাখেন। তবে শেষদিকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জ্যাকস ও রেহান আহমেদ।
শেষ ৩ ওভারে দরকার ছিল ৪৩ রান। ১৮তম ওভারে বড় আঘাত হানেন দুজন। ১৯তম ওভারে মিচেল স্যান্টনার–এর ওভার থেকে গুরুত্বপূর্ণ রান তুলে সমীকরণ সহজ করে ফেলেন তারা।
শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৫ রান—৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে ইংল্যান্ড।
প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচে অসাধারণ ব্যাটিংয়ে জ্যাকস ও রেহান আহমেদ ইংল্যান্ডকে এনে দেন স্মরণীয় জয়। টানা তিন জয়ে সেমিফাইনালে নিশ্চিত জায়গা করে নিল ইংলিশরা।
এখন সেমিফাইনালের শেষ টিকিটের লড়াই—পাকিস্তান নাকি নিউজিল্যান্ড—সেটাই দেখার অপেক্ষা।

