অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্টে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় পেলেও দ্বিতীয় টেস্টে ইনিংস ও ৫১ রানে হেরেছে টাইগাররা। তবে সিরিজে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট সাবেক বোলিং কোচ শন টেইট।
ডারউইনে বাংলাদেশের জয়কে বাইরের দৃষ্টিতে বড় অঘটন মনে হলেও বাংলাদেশ দলের সামর্থ্য সম্পর্কে আগে থেকেই ধারণা থাকায় তিনি পুরোপুরি বিস্মিত হননি বলে জানিয়েছেন টেইট। গত এক বছর বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকেই এমন আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছিল তার।
বাংলাদেশের অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে ‘দ্য ডেইলি স্টার’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টেইট বলেন, ‘প্রথম টেস্ট ম্যাচটি অসাধারণ ছিল। আমি জানতাম বাংলাদেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, কিন্তু তারা যে ম্যাচ জিতবে, সেটা জানতাম না।’
প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়াটাও প্রত্যাশিত ছিল বলে মনে করেন সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসার। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে একটি টেস্ট জয়ই বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন।
টেইট বলেন, ‘দ্বিতীয় টেস্টে তাদের কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে, সেটাও আমি মনে করেছিলাম হতে পারে। বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়া থেকে একটি টেস্ট জয় নিয়ে ফিরেছে, এর চেয়ে বেশি আর কী-ই বা চাইতে পারেন!’
ডারউইনের কন্ডিশনকে বড় কারণ মনে করছেন টেইট
বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের পেছনে ডারউইনের উইকেট ও কন্ডিশনের বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করেন টেইট। তার মতে, সাধারণত অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলের উইকেটগুলো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো হলেও ডারউইনের উইকেট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
তিনি বলেন, ‘এটি ছিল সবুজ, পেসারদের সহায়ক একটি উইকেট। অস্ট্রেলিয়া তাদের বেশিরভাগ ক্রিকেট ডারউইনের দক্ষিণের দিকে খেলে। সেখানকার উইকেটগুলো শক্ত এবং সাধারণত ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। কিন্তু সেখানে উইকেটটি ছিল একেবারেই ভিন্ন।’
ডারউইনের টেস্টে টসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন টেইট। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের প্রশংসা করেছেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমার মনে হয় টসটা অনেক বড় বিষয় ছিল এবং বাংলাদেশ দারুণ একটি বোলিং আক্রমণ নিয়ে এর জবাব দিয়েছে।’
‘বাংলাদেশ ছিল সেরা অবস্থায়, অস্ট্রেলিয়া ছিল না’
দুই টেস্টের ফলাফলের পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে টেইট মনে করেন, প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ নিজেদের সেরা অবস্থায় ছিল। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলতে পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার বোলিং অনেক বেশি কার্যকর ছিল।
টেইট বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া তাদের সেরা অবস্থায় ছিল না, আর বাংলাদেশ ছিল তাদের সেরা অবস্থায়। ব্যাপারটা আসলে এতটাই সহজ। দ্বিতীয় টেস্টে বল হাতে অস্ট্রেলিয়া তাদের সেরা অবস্থার একটু কাছাকাছি ছিল।’
দক্ষিণ আফ্রিকা সফর হবে বড় পরীক্ষা
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে বাংলাদেশের সামনে এখন দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সেখানে টেস্টের পাশাপাশি সাদা বলের ক্রিকেটও খেলবে বাংলাদেশ। সফরটিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন টেইট।
তিনি বলেন, ‘এটা বড় সফর, বিশাল একটি সফর। লাল বলের পাশাপাশি সাদা বলের ক্রিকেটও রয়েছে। আশা করি টেলিভিশনে বসে সফরটি দেখব।’
দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন সাবেক এই পেসার। সময়ের সঙ্গে সেখানকার উইকেটের ধরনে পরিবর্তন এলেও টেস্টের শুরুতে নতুন বল হাতে পেসাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
টেইটের ভাষায়, ‘বছরের পর বছর ওই উইকেটগুলো কিছুটা বদলেছে। এখন সেগুলো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো। তবে আমি জানি, টেস্ট ম্যাচের শুরুতে নতুন বল হাতে পেসাররা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেতে পারে।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় তাই শুধু একটি ম্যাচের ফল নয়—টেইটের চোখে এটি বাংলাদেশের সামর্থ্যেরও প্রমাণ। ডারউইনের সবুজ উইকেটে কার্যকর পেস আক্রমণ, টসের সুবিধা কাজে লাগানো এবং নিজেদের সেরা ক্রিকেট খেলাই বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
এবার দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন কন্ডিশনে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

