ঢাকাMonday , 17 August 2026
  1. আইপিএল
  2. আন্তর্জাতিক
  3. খবর
  4. ছবি
  5. পিএসএল
  6. বাংলাদেশ
  7. বিপিএল
  8. বিশ্বকাপ
  9. ভিডিও
আজকের সর্বশেষ খবর

লর্ডসে রোমাঞ্চকর ফাইনাল! সাইফার্টের ঝড়ে দ্য হান্ড্রেড চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস

Rahidul
August 17, 2026 12:51 pm
Link Copied!

লর্ডসে রোমাঞ্চকর ফাইনালে ট্রেন্ট রকেটসকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ২০২৬ সালের দ্য হান্ড্রেডের শিরোপা জিতেছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে তারা। দলের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার টিম সাইফার্ট। ৩৮ বলে ৭২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পাশাপাশি টুর্নামেন্টসেরার পুরস্কারও জিতেছেন তিনি।

টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস। শুরুতে ধীরগতির ব্যাটিং করলেও ইনিংসের মাঝপথে রান তোলার গতি বাড়ায় ট্রেন্ট রকেটস। ২৫ বলের পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৩৩ রান সংগ্রহ করে তারা। তবে ৩৬ বলে ৪৮ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে রকেটস।

বেন ডাকেট ২৪ বলে ৩১ রান করে শুরুটা ভালো করেন। ফিন অ্যালেন করেন ১৩ বলে ১৫ রান। এরপর আনেউরিন ডোনাল্ড মাত্র ১৯ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস রকেটসকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেয়।

তবে ডোনাল্ড ফেরার পর চাপে পড়ে রকেটস। অধিনায়ক স্যাম বিলিংস ৫ বলে ৪ রান করে রানআউট হন। টিম ডেভিডও এক বল খেলে শূন্য রানে ফেরেন। একপর্যায়ে ৫৯ বলে ৯১ রানেই চার উইকেট হারায় তারা।

এরপর মিচেল স্যান্টনার ও লুইস গ্রেগরি ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। গ্রেগরি মাত্র ১৬ বলে ৩২ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি চার ও তিনটি ছক্কা। ক্রেইগ ওভারটন যোগ করেন ৫ বলে ১১ রান। শেষ পর্যন্ত ১০০ বল শেষে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৮ রান সংগ্রহ করে ট্রেন্ট রকেটস। স্যান্টনার ১৬ বলে ২০ রানে অপরাজিত থাকেন।

ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টসের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন নূর আহমেদ। ২০ বলে ৩৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন তিনি। সনি বেকার শিকার করেন দুটি উইকেট। জশ টং ও লিয়াম ডসন নেন একটি করে উইকেট।

১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন টিম সাইফার্ট। ২৫ বলের পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৮ রান তোলে সুপার জায়ান্টস। মাত্র ২৬ বলেই দলীয় ৫০ রান পূর্ণ করে তারা।

সাইফার্ট মাত্র ২৩ বলেই ফিফটি পূর্ণ করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। চারটি চার ও সাতটি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসের স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৯.৪৭। তার এই ইনিংসই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সুপার জায়ান্টসের হাতে এনে দেয়।

সাইফার্টকে দারুণ সঙ্গ দেন পল ওয়াল্টার। ১৪ বলে ২২ রান করেন তিনি। প্রথম উইকেট জুটিতে মাত্র ২৬ বলে ৫০ রান যোগ করেন দুজন। পরে জস বাটলারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন সাইফার্ট। বাটলার ১৪ বলে ২৩ রান করে আউট হন।

দলীয় ১৩৬ রানে ৭৮ বলে সাইফার্টের দুর্দান্ত ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। এরপর হেইনরিখ ক্লাসেন ৯ বলে ১১ এবং মাইকেল ব্রেসওয়েল ২ বলে শূন্য রানে ফিরলে ম্যাচে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়। ৯৫ বলে ১৫৬ রান তুলে ফেলে সুপার জায়ান্টস—জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ বলে ৩ রান।

শেষ পর্যন্ত লিয়াস ডু প্লয় ১৮ বলে ২৭ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয় এনে দেন। লিয়াম ডসন ৩ বলে ৬ রানে অপরাজিত থাকেন। ৯৮ বলেই ১৬২ রান তুলে দুই বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।

রকেটসের হয়ে মোহাম্মদ আমির ২০ বলে ২৯ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন। ক্যালভিন হ্যারিসন নেন দুটি উইকেট। মিচেল স্যান্টনার ১৫ বলে মাত্র ৮ রান দিলেও কোনো উইকেট পাননি।

ফাইনালের ম্যাচসেরার পুরস্কারের পাশাপাশি পুরো টুর্নামেন্টে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিও পেয়েছেন টিম সাইফার্ট। ২০২৬ সালের দ্য হান্ড্রেডে মোট ৩৯৪ রান করে তিনি হয়েছেন প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ। আর তার ব্যাটিং নৈপুণ্যে প্রথমবারের মতো শিরোপার স্বাদ পেয়েছে ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস।