ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনটা ছিল পেসারদের দাপটের। দিনের ১৮টি উইকেটের ১৭টিই নিয়েছেন পেসাররা। বাংলাদেশের হয়ে একাই পাঁচ উইকেট শিকার করেছেন শরিফুল ইসলাম। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার পেসার মিচেল স্টার্কও তুলে নিয়েছেন পাঁচ উইকেট।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় সেশন শুরু করে ৩ উইকেটে ৫০ রান নিয়ে। তবে এরপর ক্যামেরন গ্রিন ও স্টিভেন স্মিথের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে স্বাগতিকরা।
ফিফটির দিকে এগোচ্ছিলেন স্মিথ। অন্যদিকে সাবলীল ব্যাটিংয়ে ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছিলেন গ্রিনও। তবে স্মিথকে ৪৫ রানে থামিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। বাঁহাতি এই পেসারের দারুণ ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞ ব্যাটার। ভেঙে যায় গ্রিন-স্মিথের গুরুত্বপূর্ণ জুটি।
স্মিথের বিদায়ের পর গ্রিনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন অ্যালেক্স ক্যারি। চাপের মধ্যেও দারুণ কিছু শটে রান বের করে অস্ট্রেলিয়ার লিড বাড়াতে থাকেন গ্রিন। একপর্যায়ে বাংলাদেশের ৬৪ রানের স্কোর পেরিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া।
এরপর আবারও ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারির জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর এক ওভারেই বিউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। এর মাধ্যমে টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো পাঁচ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
অ্যালেক্স ক্যারি ৮ বলে ৫ রান করে ফেরেন। ওয়েবস্টার কোনো রান করতে পারেননি। কামিন্স করেন ১ রান। দিনের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টেনে নিয়ে যান ক্যামেরন গ্রিন ও নাথান লায়ন।
শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান তুলে প্রথম দিনের খেলা শেষ করে অস্ট্রেলিয়া। ফলে বাংলাদেশের চেয়ে ১০১ রানের লিড পেয়েছে স্বাগতিকরা। ৮১ বলে ৫১ রান করে অপরাজিত আছেন ক্যামেরন গ্রিন। অন্য প্রান্তে তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন নাথান লায়ন।
ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনেই ১৮ উইকেটের পতন প্রমাণ করছে, এই ম্যাচে বোলারদের জন্য উইকেট কতটা সহায়ক। দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।

