মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনেও। সংঘাতের কারণে ফ্লাইট বাতিল ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় বিদেশে আটকা পড়া খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সম্প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরান-এ হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, সেনাপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ বহু মানুষের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের পাশাপাশি মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্দান-এ।
এই উত্তেজনার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী আবুধাবি-তে ইংল্যান্ড লায়ন্স ও পাকিস্তান শাহিনস-এর দ্বিতীয় আনঅফিসিয়াল ওয়ানডে বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে ইংল্যান্ড লায়ন্সের কোচিং স্টাফের সদস্য ও ব্যাটার জনি বেয়ারস্টো দেশে ফেরার জন্য সাহায্য চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন কিয়ার স্টারমার-এর কাছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, “আপনি কি আমাদের বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে পারবেন?”
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুবাই ও আবুধাবিতে বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অসংখ্য ফ্লাইট বাতিল করেছে বিমান সংস্থাগুলো।
বেয়ারস্টো অভিযোগ করেছেন, ফ্লাইট বাতিলের পর এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
শুধু ম্যাচ বাতিলেই সীমাবদ্ধ নয় প্রভাব। আরব আমিরাতে ইংল্যান্ড নারী দলের নির্ধারিত ট্রেনিং ক্যাম্পও স্থগিত করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।
সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খেলোয়াড় ও স্টাফদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত যে শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই—বরং বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তারই স্পষ্ট প্রমাণ। বিদেশে আটকা পড়া খেলোয়াড়দের নিরাপদে দেশে ফেরানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

