ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে ঐতিহাসিক হারের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই নতুন বিপদে পড়েছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। ধীরগতির ওভার রেটের (স্লো ওভার রেট) কারণে প্যাট কামিন্সের দলকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট হারানোর কঠিন শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নিয়ম অনুযায়ী, টেস্ট ম্যাচের প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৫ ওভার বোলিং করতে হয়। কিন্তু ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনে অস্ট্রেলিয়া দল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪ ওভার কম বোলিং করেছিল।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম বল করার জন্য খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফির ৫ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়া দলের একেকজন খেলোয়াড় প্রতি টেস্ট ম্যাচের জন্য ২০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার ফি পান। সেই হিসাবে ৪ ওভার কম বোলিং করায় দলের ১১ জন খেলোয়াড়ের প্রত্যেকের ৪ হাজার ডলার করে জরিমানা হতে পারে। পুরো দলের মোট জরিমানা দাঁড়াবে ৪৪ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের (WTC) পয়েন্ট তালিকা থেকেও অস্ট্রেলিয়ার ৪ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হতে পারে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে রয়েছে। ৪ পয়েন্ট কাটা গেলে তাদের পয়েন্ট কমে দাঁড়াবে ৮০ তে। এর আগে ২০২০ সালের বক্সিং ডে টেস্টে স্লো ওভার রেটের কারণে ৪ পয়েন্ট হারানোর খেসারত হিসেবে ২০২১ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারেনি অজিরা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ দলও প্রথম ইনিংসে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বোলিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে ছিল। তবে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দল যদি প্রতিপক্ষকে ৮০ ওভারের নিচে অলআউট করে দেয়, তবে এই শাস্তি প্রযোজ্য হয় না। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ৫৩ ওভারে অলআউট করায় এই শাস্তির হাত থেকে বেঁচে গেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ১৩৮ ওভার ব্যাটিং করায় অজিদের ওপর শাস্তির এই খাঁড়া ঝুলছে। তবে ডারউইনের তীব্র গরম এবং উইকেট পড়ার কারণে নষ্ট হওয়া সময় বিবেচনা করে ম্যাচ রেফারি চাইলে এই শাস্তি মওকুফও করতে পারেন।

