ক্রিকেটের মানচিত্রে জাপানের অবস্থান এখনও বেশ ছোট। আইসিসির টি–টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়েও দেশটির অবস্থান ৪১তম। সেই জাপানের বিপক্ষেই এবার একটি আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টি ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত।
আগামী ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের সানো ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে ক্রিকেটীয় দিকের পাশাপাশি ম্যাচটির রয়েছে বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব।
মূলত ভারত ও জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এই ম্যাচ। খেলাধুলার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগ বাড়ানোই এর অন্যতম উদ্দেশ্য।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচির মধ্যে শীর্ষ বৈঠকে হওয়া সমঝোতা চুক্তির ধারাবাহিকতায় ভারত–জাপান টি–টোয়েন্টি ম্যাচটি আয়োজন করা হচ্ছে।
মাঠের ক্রিকেটেও ম্যাচটির আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। জাপানের মাটিতে বসতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে গেমসে ক্রিকেটের লড়াই। সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ায় গ্রুপ পর্বে খেলতে হবে না ভারতকে। ফলে এশিয়ান গেমসে নিজেদের অভিযান শুরুর আগে ২২ সেপ্টেম্বর জাপানের বিপক্ষে প্রস্তুতিমূলক আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাচ্ছে তারা।
অন্যদিকে স্বাগতিক জাপান এশিয়ান গেমসে ক্রিকেট অভিযান শুরু করবে ২৪ সেপ্টেম্বর। তাদের প্রথম ম্যাচ আফগানিস্তানের বিপক্ষে।
ভারত–জাপান ম্যাচকে ক্রিকেটের প্রসারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিসিসিআইয়ের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া মনে করেন, এই ম্যাচের মাধ্যমে ক্রিকেটের প্রচলিত শক্তিকেন্দ্রের বাইরে নতুন অঞ্চলে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ভারতীয় দল এমন একটি নতুন অঞ্চলে যাচ্ছে, যা ক্রিকেটের চিরাচরিত শক্তিকেন্দ্রের বাইরে। জাপান ও পূর্ব এশিয়ায় আরও বড় দর্শকগোষ্ঠীর কাছে ক্রিকেটকে পৌঁছে দেওয়ারও সুযোগ তৈরি হবে এতে।’
জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছেও ম্যাচটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী নাওকি মিয়াজির মতে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতকে জাপানের ক্রিকেটে আমন্ত্রণ জানানো একটি মাইলফলক।
আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে এটি হবে ভারতের ২০তম প্রতিপক্ষ। একই সঙ্গে জাপানের জন্যও ম্যাচটি ঐতিহাসিক—কারণ এই প্রথম আইসিসির কোনো পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে মাঠে নামবে তারা।
ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের বাইরে ভারত–জাপানের বন্ধুত্ব ও সম্পর্কের ৭৫ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতেই তাই বিশেষ এই টি–টোয়েন্টি ম্যাচ।

