বিশ্বকাপে ভারত–পাকিস্তান লড়াই হারিয়ে যাওয়াকে কষ্টদায়ক বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক আইসিসি সভাপতি ও পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটার জহির আব্বাস। একসময় ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট মানেই ছিল উত্তেজনা ও আবেগের লড়াই, যেখানে মাঠের বাইরে ছিল পারস্পরিক সম্মান—সেই চিত্র এখন বদলে গেছে বলেই মনে করেন তিনি।
খালিজ টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘হৃদয়বিদারক’ আখ্যা দেন আব্বাস। তার মতে, যা ঘটছে তা ক্রিকেটের জন্য মোটেও ভালো নয়।
সত্তরের দশক ও আশির শুরুর দিকে ভারতের বিপক্ষে বহু ম্যাচ খেলা আব্বাস বলেন, তখন রাজনৈতিক প্রভাব মাঠে আসত না। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হলেও মাঠের বাইরে দুই দলের মধ্যে সম্পর্ক ছিল স্বাভাবিক ও সম্মানজনক।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। গত এশিয়া কাপে দুই দলের ক্রিকেটারদের হাত মেলানো নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই মাঠ ছাড়ার অভিযোগ ওঠে ভারতের ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আপত্তিও জানানো হয়েছিল।
এশিয়া কাপে ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর পুরস্কার বিতরণীতেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়। পিসিবি ও এসিসি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানায় ভারত—এমন অভিযোগ উঠে। পরে বাংলাদেশ ইস্যুতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানায় পাকিস্তান। এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে।
এসব ঘটনা ক্রিকেটের চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করেন আব্বাস। তার ভাষায়, “ক্রিকেট কারও একার নয়। দেশ, বোর্ড বা রাজনীতির ঊর্ধ্বে থাকা উচিত এই খেলা।” তিনি মনে করেন, প্রশাসক ও খেলোয়াড়—দুই পক্ষই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।
একসময় ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ছিল গ্যালারি ভরা দর্শক ও টিভির সামনে কোটি মানুষের চোখ। আব্বাসের মতে, ক্রিকেট তখন মানুষকে কাছাকাছি আনত, কিন্তু এখন পরিস্থিতি উল্টো হয়ে যাচ্ছে।
৭৮ বছর বয়সী এই সাবেক আইসিসি সভাপতি বলেন, “তখন রাজনীতি মাথায় থাকত না, খেলাটাই ছিল মুখ্য। জয়-পরাজয় ছিল, কিন্তু বিদ্বেষ ছিল না।” বর্তমান অবস্থায় তিনি হতাশ ও উদ্বিগ্ন—কারণ শেষ পর্যন্ত ক্ষতি হচ্ছে ক্রিকেটেরই।

