আমিরাতের কোনো বোলারই উইকেটের দেখা পাননি। টানা দ্বিতীয়বার ম্যাচসেরা হয়েছেন টিম সেইফার্ট। তার সঙ্গে ফিন অ্যালেনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে নিউজিল্যান্ড, এগিয়ে গেছে সুপার এইটের পথে।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচে চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছে কিউইরা। দুই ওপেনার সেইফার্ট ও অ্যালেনের ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় নিউজিল্যান্ড।

টসে জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আমিরাত। ১২ রানে ওপেনার আরিয়ানশ শর্মাকে হারালেও আলিশান শারাফু ও অধিনায়ক মোহাম্মদ ওয়াসিম ইনিংস সামাল দেন। দুজনের কার্যকর ব্যাটিংয়ে পাওয়ারপ্লেতে ১ উইকেটে ৫০ রান তোলে দলটি।
পরবর্তীতে এই জুটি ইনিংস এগিয়ে নেয়। উইকেটের চারপাশে দারুণ শট খেলতে খেলতে দুজনই তুলে নেন ফিফটি। ১০৭ রানের জুটি ভাঙে ১১৯ রানে — ৪৭ বলে ৫৫ রান করে ফেরেন শারাফু। পরে হার্শিত কৌশিক (২) দ্রুত আউট হলেও ১৩ বলে ২১ রান করেন মায়াঙ্ক কুমার। শেষদিকে শোয়েব খানের ৭ রানের ক্যামিও এবং ওয়াসিমের অপরাজিত ৪৫ বলে ৬৬ রানের ইনিংসে ৬ উইকেটে ১৭৩ রান সংগ্রহ করে আমিরাত।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে ২ উইকেট নেন ম্যাট হেনরি। একটি করে উইকেট শিকার করেন জ্যাকব ডাফি, মিচেল স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপস ও লকি ফার্গুসন।
১৭৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত সূচনা করেন ফিন অ্যালেন ও টিম সেইফার্ট। শুরু থেকেই মারমুখি ব্যাটিংয়ে আমিরাতের বোলারদের ওপর চড়াও হন দুই ওপেনার। পাওয়ারপ্লেতে বিনা উইকেটে ৭৮ রান তোলে নিউজিল্যান্ড।
পাওয়ারপ্লের পরেও থামেনি তাদের তাণ্ডব। দুজনই ফিফটি তুলে নেন এবং একের পর এক বাউন্ডারিতে ম্যাচ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। তাদের জুটিতে গড়ে ওঠে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ রানের পার্টনারশিপ।

২৮ বল হাতে রেখে ১০ উইকেটে জয় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড। দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৫ রান। সেইফার্ট ৪২ বলে ৮৯ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর অ্যালেন করেন ৫০ বলে ৮৪ রান। এর আগে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড ছিল ১৭০ রান — ২০২২ সালের সেমিফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের জস বাটলার ও অ্যালেক্স হেলসের।
এই জয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে গ্রুপে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে নিউজিল্যান্ড। ম্যাচসেরা হয়েছেন টিম সেইফার্ট।

