রাজনৈতিক জটিলতার কারণে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসান-এর অনুপস্থিতি, আর ওয়ানডে থেকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিকুর রহিম-এর অবসরে বাংলাদেশের মিডল অর্ডারে তৈরি হয়েছে বড় শূন্যতা। সেই জায়গা পূরণে এখন নতুন ভরসা লিটন দাস— এমনটাই মনে করছেন সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডল অর্ডার ব্যাটার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিক। ২৭৪ ওয়ানডেতে ৭,৭৯৫ রান, ৯ সেঞ্চুরি ও ৪৯ হাফ সেঞ্চুরিতে তার অবদান ছিল অসামান্য। একইভাবে সাকিবও ২৪৭ ম্যাচে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি রান করে মিডল অর্ডারে স্থিতিশীলতা দিয়েছেন। অন্যদিকে ফিনিশারের ভূমিকায় মাহমুদউল্লাহর ২৩৯ ম্যাচে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি রান দলকে বহুবার জিতিয়েছে।
এই তিন অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের অনুপস্থিতিতে মিডল অর্ডারে অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্পষ্ট। সেই কারণেই টিম ম্যানেজমেন্ট লিটন দাসকে নতুন ভূমিকায় দেখছে। সাম্প্রতিক সিরিজে তিন ও চার নম্বরে ব্যাট করে কিছুটা সম্ভাবনার ঝলক দেখিয়েছেন তিনি। যদিও পুরোপুরি প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, তবুও তাকে নিয়ে আশাবাদী দল।
এ বিষয়ে আশরাফুল বলেন, লিটনের দলে থিতু হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা লিটনের টেস্টেও ভালো রেকর্ড আছে। ওয়ানডেতে খারাপ সময় কাটালেও সাম্প্রতিক সিরিজ তার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলেই মনে করেন তিনি। বিশেষ করে দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় মিডল অর্ডারে তাকে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দলের জন্য ইতিবাচক দিক।
এদিকে সাম্প্রতিক সিরিজে উইকেট নিয়েও এসেছে পরিবর্তন। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজ জিতেছে। শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম-এর উইকেট এবার ছিল স্পোর্টিং, যেখানে পেসার, স্পিনার ও ব্যাটার— সবাই সমান সহায়তা পেয়েছে।
এই পরিবর্তনে খুশি আশরাফুল। তার মতে, এতদিন মিরপুরের উইকেট নিয়ে সমালোচনা থাকলেও এবার ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। পেসারদের জন্য সহায়ক উইকেটে দারুণ পারফর্ম করেছেন নাহিদ রানা, তাসকিন আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান। সব মিলিয়ে ব্যাট-বল সমান লড়াইয়ের এই উইকেট ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে।

