চলতি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়াকে বিদায় করে এবং সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে ক্রিকেট বিশ্বকে নতুন করে চমকে দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। তবে এখানেই সন্তুষ্ট নন দলটির অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তার মতে, সুপার এইটে ওঠা সাফল্যের একটি অংশমাত্র—চূড়ান্ত লক্ষ্য আরও বড়।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মঙ্গলবারের ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ায় সুপার এইট নিশ্চিত হয় জিম্বাবুয়ের। ম্যাচ শেষে রাজা বলেন,
“জিম্বাবুয়ে যখন আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিল, তখন সেটি শুধু যোগ্যতা অর্জনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। আমাদের আরও কিছু লক্ষ্য আছে এবং সেগুলো অর্জনে আমরা মনোযোগী আছি। হ্যাঁ, সুপার এইট নিশ্চিত করা লক্ষ্যপূরণের একটি ধাপ, কিন্তু এটিই পুরো লক্ষ্য নয়।”
গত টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আফ্রিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে উগান্ডার কাছে হেরে মূল আসরে জায়গা পায়নি জিম্বাবুয়ে। সেই হতাশা পেছনে ফেলে এবার তারা টুর্নামেন্টে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন দেখছে। সামনে গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, এরপর সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে তারা।
দেশের জন্য সম্মান ও স্বীকৃতি ফেরানোই ছিল দলের অন্যতম বড় লক্ষ্য— সেটিও স্পষ্ট করেন রাজা। তিনি বলেন,
“আমরা যে লক্ষ্যগুলো ঠিক করেছিলাম, তার একটি ছিল আমাদের দেশের জন্য আরও স্বীকৃতি ও সম্মান বয়ে আনা। অতীতে যা হয়েছে, তা হয়ে গেছে। কিন্তু এই দলটি দীর্ঘদিন একসঙ্গে আছে এবং আমরা যেভাবে খেলাটির প্রতি ও ড্রেসিংরুমে একে অপরের প্রতি সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে এগিয়েছি, সেটিই ছিল আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর একটি।”
গণমাধ্যম ও ক্রিকেটবিশ্বে জিম্বাবুয়েকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করাটাকেও বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক। রাজার মতে,
“এখন আপনাদের এবং সবার কাছ থেকে জিম্বাবুয়েকে সম্মানজনক জায়গায় দেখা আমাদের জন্য বিনম্র ও আনন্দের অনুভূতি। আশা করি আমরা আমাদের নিজেদের ইতিহাস লিখে যেতে পারব, এবং পরেরবার যখন ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের কথা উঠবে, মানুষ আরও বেশি সম্মান দেখাবে।”
এই বিশ্বকাপে দলকে সমর্থন দিতে মাঠে হাজির হয়েছেন কিছু নিবেদিতপ্রাণ সমর্থকও। পাল্লেকেলেতে গ্যালারির এক কোণে বড় জিম্বাবুয়ে পতাকা টাঙিয়ে দলকে উৎসাহ দেন তারা। সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাজা বলেন,
“সম্ভবত অনেক দিনের মধ্যে এই প্রথম সমর্থকেরা আমাদের সমর্থন দিতে ভ্রমণ করে এসেছে। গত এক বছরে আমরা যেভাবে ক্রিকেট খেলেছি, সেটিই তাদের এই আশা দিয়েছে যে আমরা কিছু করতে পারব।”
সবশেষে পুরো জাতিকে একসূত্রে বাঁধার বার্তাও দেন জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক।
“এটা শুধু ক্রিকেটারদের বিষয় নয়—এটি সমর্থক, গণমাধ্যম ও দেশের সবাইকে নিয়ে। আমরা যদি সবাই একসঙ্গে থাকতে পারি, তাহলে অবশ্যই কিছু অর্জন করতে পারব।”
সুপার এইটে ওঠার আনন্দের মাঝেও তাই জিম্বাবুয়ের চোখ এখন আরও সামনে— নিজেদের গল্প নতুনভাবে লিখতে চায় রাজাদের দল।

