কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্কটল্যান্ডের লড়াইটা শেষ পর্যন্ত একপেশেই হয়ে গেল। ব্যাট হাতে শিমরন হেটমায়ারের দাপট আর বল হাতে রোমারিও শেফার্ডের বিধ্বংসী স্পেলে স্কটল্যান্ডকে ৩৫ রানে হারিয়ে আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করেছে ক্যারিবীয়রা। আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৮২ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জবাবে স্কটিশরা গুটিয়ে যায় ১৪৭ রানে।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে খুব বিস্ফোরক না হলেও নিয়ন্ত্রিত শুরু পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্রেন্ডন কিং ৩০ বলে ৩৫ রানের ইনিংসে গতি ধরে রাখেন, যেখানে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। তবে অধিনায়ক শাই হোপ ২২ বলে ১৯ করে মাইকেল লিস্কের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। পাওয়ারপ্লে শেষে রান উঠলেও উইকেট হারানোর চাপ ছিল।
এই অবস্থায় ক্রিজে এসে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন শিমরন হেটমায়ার। ইনিংসসেরা ৩৬ বলে ৬৪ রানের ঝড়ো ইনিংসে মাত্র ২টি চার থাকলেও ৬টি বিশাল ছক্কায় স্কটিশ বোলিং আক্রমণকে ছিন্নভিন্ন করেন তিনি। ১৭৭.৭৭ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংসই দলকে ১৮০ পেরোনোর ভিত গড়ে দেয়।

তার সঙ্গে রোভম্যান পাওয়েল ১৪ বলে ২৪ এবং শেষ দিকে শেরফেন রাদারফোর্ড ১৩ বলে ২৬ রানের কার্যকর ক্যামিও খেলেন। ডেথ ওভারের এই ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২০ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১৮২ রান দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। স্কটল্যান্ডের হয়ে ব্র্যাড কারি ২৩ রানে ২ উইকেট নেন।
১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্কটল্যান্ড। ৭ রানেই ফেরেন মাইকেল জোন্স। পাওয়ারপ্লের মধ্যেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। জর্জ মানসি ১৯ রান করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি, ব্যর্থ হন ব্র্যান্ডন ম্যাকমুলেনও।

চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক রিচি বেরিংটন (২৪ বলে ৪২) ও টম ব্রুস (২৮ বলে ৩৫) প্রতিরোধ গড়লেও জুটি ভাঙতেই ধস নামে।
ম্যাচের আসল নাটক জমে ১৬তম ওভারে। রোমারিও শেফার্ড টানা তিন বলে ম্যাথিউ ক্রস, মাইকেল লিস্ক ও অলিভার ডেভিডসনকে আউট করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন। পরের বলেই সফিয়ান শরিফকে ফিরিয়ে এক ওভারেই চার উইকেট তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত তার বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৩ ওভারে ২০ রানে ৫ উইকেট।

জেসন হোল্ডার নেন ৩ উইকেট, গুডাকেশ মোটি ও শামার জোসেফ একটি করে। স্কটল্যান্ড অলআউট হয় ১৮.৫ ওভারে ১৪৭ রানে। ফলে ৩৫ রানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
৬৪ রানের ঝড়ো ইনিংসের জন্য ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন শিমরন হেটমায়ার।

