বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসরে দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তিন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারা ভঙ্গের অভিযোগ রয়েছে।
https://youtu.be/_YaRum7NBXY?si=bW4RrA1HQoyQhlW5
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবি। অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মজলিসুর রহমান (শামীম), সাবেক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেন এবং বিসিবির অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।
বিসিবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের (BCB Integrity Unit) তদন্তের ভিত্তিতে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনজনকেই অভিযোগের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য তারা ১৪ দিন সময় পাবেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইসিসির দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
মোহাম্মদ মজলিসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.১.১, ২.১.৪, ২.৪.৪ ও ২.৪.৭ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইসিসির ২.১.১ ধারায় ম্যাচের ফল, ম্যাচের গতিপ্রকৃতি, আচরণ কিংবা অন্য কোনো দিক অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা অথবা এ ধরনের কোনো চুক্তি বা প্রস্তাবের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত।
অন্যদিকে ২.১.৪ ধারায় কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে উৎসাহিত বা সহায়তা করার অভিযোগের বিষয়টি রয়েছে।
সাবেক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কর্মকর্তা জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার পর তা অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে অবহিত না করার অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া দুর্নীতি বিরোধী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের সময় তথ্য গোপন, তথ্য মুছে ফেলা এবং আলামত নষ্ট করে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
জাকিরের বিরুদ্ধে ২.১.১ ও ২.৪.৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগে তাকে ২.৪.৬ ধারায়ও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অন্য অভিযুক্ত রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের ২.৪.৪ ও ২.৪.৬ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিসিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর আইসিসির সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা বিষয়গুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।